মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার মঙ্গলবার সকাল থেকেই মিছিল ও স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা অংশ নেন। সমাবেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে তার ফাঁসির দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও শহিদের স্মরণ:
বিকাল তিনটার আগে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত দমন-পীড়ন ও দুর্নীতি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিকাল চারটার দিকে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহিদদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। শহিদ শাহরিয়ার হাসানের বাবা আবুল হাসান বলেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েদের ওপর গুলি চালিয়ে হত্যার দায়ে খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই। এই বেদনা শেষ হওয়ার নয়।”
জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা:
সমাবেশে আন্দোলনের নেতারা জানান, মুজিববাদী সংবিধানের কবর রচনা এবং নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনের জন্য ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রয়োজন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা তাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিকল্পনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান:
সমাবেশস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, ডগ স্কোয়াড, র্যাব, এবং ডিবি মোতায়েন ছিল।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু:
‘মার্চ ফর ইউনিটি’ কর্মসূচি এবং ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গত দুই দিন ধরে তুমুল আলোচনা চলছে। আন্দোলনকারীরা বলেন, এটি শুধু একটি সমাবেশ নয়, বরং নতুন বাংলাদেশ গঠনের আন্দোলনের ভিত্তি।
পরিবেশ:
উত্তেজনা ও আবেগপূর্ণ পরিবেশে ছাত্র-জনতা সমাবেশে অংশ নেয়। ব্যানার, ফেস্টুন এবং স্লোগানে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার রূপ নেয় গণপ্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে।
0 মন্তব্যসমূহ